মেহেদি পাতার অবিশ্বাস্য উপকারিতা

মেহেদি পাতা হাত বা পায়ে নকশা করার বাইরেও রয়েছে ঔষধি গুণাবলী । জেনে নিন মেহেদি পাতা দিয়ে প্রাকৃতিক হেয়ার ডাই থেকে শুরু করে অবিশ্বাস্য ঔষধি গুণাবলী।

ভুমিকা

মেহেদি বা মেহেন্দি আমরা সবাই চিনি। সাধারণত মেহেদি পাতা হাত, পা ও চুল রাঙাতে ব্যবহার করা হয়। ঈদ, বিয়ে, শাদী ইত্যাদি উপলক্ষে মেয়েদের সাজতে মেহেন্দি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়।

মেহেদি গাছ
মেহেদি গাছ

এছাড়া চুল ও দাড়ি রাঙানোর জন্য মেহেদি পাতার ব্যবহার অনেক বেশি। আজকাল বাজারে মেহেন্দি পাতাও পাওয়া যায়। অনেক বাড়ির আঙিনায় ও ছাদে মেহেন্দি গাছ লাগানো হয়।

এই গাছ খুব বড় হয় না, কাঠ হিসাবে ব্যবহার করা যায় না, তাই এটি যে কোনও জায়গায় লাগানো যেতে পারে। মেহেন্দি শুধু রং করার জন্যই নয় অনেক রোগ নিরাময় করে।

খুশকি দূর করতে মেহেদি পাতা

কারো খুশকি থাকলে মেহেদি পাতা মাথার ত্বকে লাগালে খুশকি দূর হবে।

চুল পড়া রোধ করতে বা চুল সিল্কি করতে অনেকেই চুলে মেহেদি ব্যবহার করেন। অনেকেই চুলে প্রাকৃতিক রঙ আনতে মেহেদি ব্যবহার করেন। এই মেহেদি আপনার চির শত্রু খুশকি দূর করতে পারে! সপ্তাহে একবার মেহেদির প্যাক ব্যবহার করে দেখুন উপকৃত হবেন। তবে এই মেহেদি প্যাক তৈলাক্ত চুলে ভালো কাজ করবে না। তাই তেল ছাড়া পরিষ্কার চুলে এই প্যাকগুলো ব্যবহার করতে হবে।

চুল ঝলমলে করতে মেহেদির চেয়ে ভালো আর কিছু নেই। সুন্দর ও চকচকে করা ছাড়াও চুলের জন্য মেহেদির আরও অনেক উপকারিতা রয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ:

1) মেহেদির অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য মাথার ত্বককে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
2) স্প্লিট এন্ড, চুলের রুক্ষতা দূর করে।
3) নতুন চুল গজাতে মেহেন্দির জুড়ি নেই।
৪) মেহেন্দি চুলের প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে।

মাথাব্যথা দূর করতে মেহেদি পাতা

মাথা ব্যথায় মেহেন্দি পাতা লাগালে মাথাব্যথা সেরে যায়।

মাথাব্যথা সারায়: মেহেদি গাছের ফুল মাথাব্যথা দূর করতে সাহায্য করে। এই ফুলের পেস্ট ভিনেগারের সাথে মিশিয়ে নিন। এটি কপালে বা ব্যথাযুক্ত স্থানে লাগান উপকার পাবেন। এ ছাড়া মেহেদি পাতার পেস্টও ব্যবহার করতে পারেন।

মেহেদি পাতার আরও কিছু ঔষধি গুণাবলী

মুখ ও গলার ক্ষতঃ কারো মুখে বা গলায় ক্ষত বা ঘা থাকলে মেহেদি পাতা সিদ্ধ করে সেই পানি মুখে লাগালে বা গার্গল করলে ক্ষত সেরে যায়।

শুকরামেঃ কারো এই রোগ হলে মেহেদি পাতার রস এক চা চামচ পানি বা দুধের সাথে সামান্য চিনি মিশিয়ে দিনে ২ বার খেলে এক সপ্তাহের মধ্যে উপকার পাওয়া যাবে।

ঘামের দুর্গন্ধঃ মেহেদি পাতা ও বেনার মূল দিয়ে সিদ্ধ পানিতে গোসল করলে ঘামের দুর্গন্ধ দূর হবে।

চুলের বৃদ্ধি : 10-12 গ্রাম মেহেদি পাতা এবং একটি হরিতকি সামান্য চূর্ণ করে ২৫০ মিলি পানিতে সিদ্ধ করে 60-70 মিলি করে নামিয়ে ছেঁকে ঠান্ডা করে মাথায় লাগাতে হয়।

নখ ও চুলের যত্নে: নখ ও চুলে মেহেদি পাতা লাগালে নখ ও চুল ভালো থাকে।
চোখের মণি: মেহেদি পাতা চূর্ণ করে পায়ের তলায় লাগালে চোখের আঁচিল প্রতিরোধ হবে।

স্রাব বন্ধে: 25 গ্রাম মেহেন্দি পাতা সিদ্ধ করে উত্তরবস্তি (ঝরনা) হিসাবে সেই জলে দিলে সাদা স্রাব বন্ধ হয় এবং অভ্যন্তরীণ চুলকানিও উপশম হয়। জরায়ু স্থানচ্যুতির ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিটি উপকারী।

অনিদ্রা: আগের দিনগুলিতে রাজাদের অনিদ্রা থাকলে মেহেদি বালিশে ঘুমানোর পরামর্শ দেওয়া হত।
জন্ডিস: মেহেদির মূল বা চাল ধুয়ে পানিতে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। 2 চা চামচ এই পেস্ট নিন এবং 8-10 চা চামচ ধোয়া চালের জলের সাথে মিশিয়ে নিন। ৪-৫ দিন পর প্রতিদিন সকাল-বিকাল খেলে জন্ডিস ভালো হয়ে যাবে।

গনোরিয়া ও ইউরিনারি ট্র্যাক্ট: মেহেদি পাতার রস ২-৪ চা চামচ সামান্য চিনি বা মিছরি মিশিয়ে সকাল-বিকাল কয়েকদিন খেলে রোগ সেরে যায়।

নখের রোগ : নখের রোগ হলে বা হাত ও পায়ের আঙ্গুলের মাঝখানে চুলকানি হলে পাতার ক্বাথ পানিতে মিশিয়ে সকাল ও বিকেলে দুইবার লাগালে উপকার পাওয়া যায়।

পায়োরিয়া: দাঁতের গোড়ায় পুঁজ হলে পাতার ক্বাথ অল্প পরিমাণ হলুদের সঙ্গে মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগালে কয়েকদিনের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। এটি দাঁতের গোড়াকে বিবর্ণ করে দিতে পারে, তবে এই রঙটি কয়েক দিনের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে যাবে।

হাত-পা কাঁপুনি: কারও কোলেস্টেসিস থাকলে হাত-পা কাঁপতে থাকে। এ অবস্থায় তাজা মেহেদি পাতার রস হাতে-পায়ে ঘষে এবং তার সঙ্গে কোলেরেটিক ওষুধ খেলে দ্রুত উপকার পাওয়া যায়।
কানে পুঁজঃ কানে পুঁজ হলে ২ ফোঁটা মেহেদী পাতার রস কানে দিলে ৪-৫ দিনের মধ্যে কানে পুঁজ পড়া বন্ধ হবে।

চোখ ফোলা: কারো চোখ ফুলে গেলে কয়েকটি মেহেদি পাতা পিষে গরম পানি মিশিয়ে ছেঁকে নিয়ে পানির ফোঁটা চোখে লাগাতে হবে। এতে চোখের উন্নতি হবে। চোখের কোণ থেকে পুঁজ পড়লেও এই পানির ফোঁটা দিলে চোখ ভালো হয়ে যায়।]

চর্মরোগ: মেহেদি পাতা লাগালে যেকোনো চর্মরোগ সেরে যায়।

পা ফাটা: শীতকালে পা ফাটে। কিন্তু কারো কারো পা ফাটার সমস্যা প্রতি কয়েকমাস হয়। এছাড়া অনেকের ত্বকের সমস্যাও রয়েছে। ফাটা জায়গায় মেহেদি পাতার পুরু স্তর লাগান। আধা ঘণ্টা রেখে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে পা ফাটা রোধ হবে।

নখের যত্ন: নখ মজবুত ও আকর্ষণীয় করতে মেহেন্দি পাতা। নখ মজবুত ও আকর্ষণীয় করতে মেহেদির জুড়ি নেই। পানিতে কয়েকটি মেহেদি পাতা ভিজিয়ে রাখুন কিছুক্ষণ। পানি হালকা লাল হয়ে আসলে ওই পানি খেয়ে নিতে পারেন।

1 thought on “মেহেদি পাতার অবিশ্বাস্য উপকারিতা”

Leave a Comment